নূরুল ইসলাম বুলবুল
EN
জীবনী

নূরুল ইসলাম বুলবুল

ছাত্ররাজনীতির প্রথম সারি থেকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত — কারাবরণ, আঘাত আর ত্যাগের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা একজন সংগঠকের গল্প।

নূরুল ইসলাম বুলবুল
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ছাত্র থেকে সংগঠক, সংগঠক থেকে নেতা

নূরুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই সংগঠক ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সাথে যুক্ত এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সন্তান এই নেতা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

জন্ম

৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮, রেহাইচর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

শিক্ষা

এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

পরিবার

স্ত্রী কোহিনূর আখতার সীমা এবং তিন সন্তান

বর্তমান দায়িত্ব

আমীর, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

কর্মজীবন

শিক্ষকতা, রেজিস্ট্রার ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা

ত্যাগ

একাধিকবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার

বিস্তারিত

জীবনের অধ্যায়সমূহ

পারিবারিক পরিচিতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার রেহাইচর গ্রামে ১৯৬৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম। বাবা মরহুম অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসরাইল ছিলেন কৃষ্ণগোবিন্দপুর ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, মা মোসাঃ নুরজাহান বেগম নুরী। দশ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। ২০০৩ সালে কোহিনূর আখতার সীমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

শিক্ষাজীবন

রেহাইচর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করে হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৮৭ সালে বিএসএস অনার্স সম্পন্ন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯১ সালে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্র আন্দোলন ও নেতৃত্ব

১৯৭৮ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থক হিসেবে যাত্রা শুরু করে ধাপে ধাপে কর্মী, সাথী ও সদস্য পদ লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কলেজ, ১৯৮৮ সালে শহর এবং ১৯৯৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬-৯৭ সালে রাজশাহী মহানগরী সভাপতি হয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে যুক্ত হন এবং ২০০১-০২ সালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন।

ছাত্র সংসদ নির্বাচন

১৯৮৫ সালের ১১ মে কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে কুরআন দিবসের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৭ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সালে রাকসু নির্বাচনে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের জিএস নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক জীবন — জামায়াতে ইসলামী

১ জানুয়ারি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে অক্টোবরে রুকন হিসেবে শপথ নেন। উত্তরা দাওয়াতি ইউনিট সেক্রেটারি ও সভাপতি, গুলশান থানা আমীর (২০০৪-০৫), ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি (২০০৬-১১) ও সেক্রেটারি (২০১২-১৬) হয়ে ২০১৭ সাল থেকে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নির্বাচিত আমীর এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্মজীবন

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে নবাবগঞ্জ সিটি কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্যান এশিয়াটিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার এবং জাবালে নূর হাসপাতাল ও ফাউন্ডেশনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠিত ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।

সামাজিক কার্যক্রম

নিজ গ্রামে শিশু-কিশোরদের জন্য আদর্শ সংগঠন RICO প্রতিষ্ঠা করেন এবং কুরআন দিবসের স্মরণে গঠিত আল-কুরআন ফাউন্ডেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজশাহী মহানগরী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রকল্প চালু করেন এবং ঢাকার ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। বন্যা ত্রাণ, চক্ষু শিবির ও খাল খননসহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ

প্রায় তিন দশক ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন — ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৫ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবির আন্দোলন, ২০০০ সালে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০০৬ সালের সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি, ২০০৯-১০ সালের টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী আন্দোলন এবং ২০১৪ সালের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন। কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, সিরিয়াসহ নিপীড়িত মুসলিম জনগোষ্ঠীর পক্ষেও তিনি সোচ্চার থেকেছেন।

জুলুম-নির্যাতন ও কারাবরণ

ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার মূল্য দিতে হয়েছে বহুবার। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে মিথ্যা মামলায় এবং ১৯৯৩ সালে সাড়ে তিন মাস কারাবরণ করেন। ২০০৬ সালে পল্টনে লাঠিচার্জে গুরুতর আহত ও দীর্ঘ হাসপাতালবাস, ২০১৩ সালে প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্বদানকালে গুলিবিদ্ধ হন। ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে সাত মাস কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান; পুরনো মামলাগুলোতে বেকসুর খালাস পেলেও সাম্প্রতিক বছরের মামলা এখনো বিচারাধীন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গন

১৯৯০ সালে রাকসু ও হল সংসদ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ভারত সফর করেন। ২০০১ ও ২০০২ সালে পবিত্র হজ্ব পালন করেন এবং ২০০১ সালে WAMY আয়োজিত World Youth Conference-এ যোগ দিতে মালয়েশিয়া যান। ২০০২ সালে রিয়াদে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলন ও Asian Federation of Muslim Youth-এর কার্যকরী কমিটির সভায় অংশ নেন, পাশাপাশি মদিনা, জেদ্দা ও মক্কা সফর করে উমরা পালন করেন।

লেখালেখি ও প্রকাশনা

ছাত্রজীবন থেকেই বক্তৃতা, বিতর্ক, প্রবন্ধ রচনা ও পত্রিকা সম্পাদনায় সক্রিয় থেকেছেন। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তাঁর অসংখ্য লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

0+

বছরের সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন

0+

বছর জামায়াতে ইসলামীতে

0+

বার কারাবরণ

0+

সাংগঠনিক শীর্ষ পদে দায়িত্ব

যাত্রাপথ

সাংগঠনিক ইতিহাস

১৯৭৮

ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি

মাত্র দশ বছর বয়সে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থক হিসেবে যাত্রা শুরু।

১৯৮৭-৮৮

কলেজ ও জেলা নেতৃত্বে

বিএসএস অনার্স সম্পন্নের পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ কলেজ ও সিটি ইউনিটের সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০০১-০২

কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তরের পর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পান।

২০০৩

জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

উত্তরা দাওয়াহ ইউনিট থেকে যাত্রা শুরু করে ধাপে ধাপে ঢাকা মহানগরীর নেতৃত্বে পৌঁছান।

২০০৬-১৩

আঘাত সয়ে মাঠে অবিচল

পল্টনে পুলিশি লাঠিচার্জে গুরুতর আহত এবং পরবর্তীতে আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়েও রাজনৈতিক সক্রিয়তা অব্যাহত রাখেন।

২০১৭-বর্তমান

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।